তরুণ প্রজন্মের হাত ধরেই রাজ্য ঘুরে দাঁড়াতে পারে : বুদ্ধদেব
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক : রাজ্যে স্বৈরতন্ত্র ও সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের বিপদ রোখার জন্য এবার নতুন প্রজন্মের ওপরেই ভরসা রাখতে চলেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বামনেতা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। উল্লেখ করা যায়, এবারের বিধানসভা ভোটে অনেক তরুণ মুখকে নির্বাচনী ময়দানে নামিয়েছে সিপিএম। এ বিষয়ে বুদ্ধবাবু জানিয়েছেন, বাংলার মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে। তরুণ প্রজন্মের হাত ধরেই রাজ্য আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। এবারের নির্বাচন বাংলার রাজনীতিতে একটি ‘সন্ধিক্ষণ’ বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
বুদ্ধবাবু আরও জানিয়েছেন, এখন বাংলার মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে। নতুন প্রজন্মের কয়েক হাজার যুবক-যুবতী ছোট, মাঝারি, বৃহৎ শিল্প ও কর্মসংস্থানের দাবি নিয়ে পথে নেমেছে। ওরাই পারবে এই বিপদকে রুখে দিতে। বর্তমান পরিস্থিতির অবদান ঘটিয়ে নতুন সরকার তৈরি করে ওরা পারবে বাংলার হৃত গৌরবকে ফিরিয়ে আনতে। উল্লেখ্য, পরবর্তী প্রজন্মের হাতে নেতৃত্বের ভার দিয়ে এবং অনেকটাই শারীরিক কারণে স্বেচ্ছায় অন্তরালে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য।
শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে একুশের ভোটের প্রচারেও তিনি নেই। তবে বিবৃতি দিয়ে তিনি জনতার উদ্দেশে আবেদন রেখেছেন বামফ্রন্ট, কংগ্রেস ও ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টকে (আইএসএফ) নিয়ে গড়ে ওঠা স্বৈরতন্ত্র ও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী সংযুক্ত মোর্চাকে সমর্থন করার জন্য। এক্ষেত্রে বিশেষভাবে তিনি নজর দিয়েছেন তরুণ প্রজন্মের দাবি ও লড়াইয়ের ওপরেই। তিনি অনেকটাই আশাবাদী, সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের বিষকে ব্যর্থ করে কাজের দাবিতে এগিয়ে রাজ্যকে অন্ধকার থেকে বার করে আনতে পারবে তরুণ প্রজন্মই।
অন্যদিকে কেন রাজ্য আজ অন্ধকার নেমে এসেছে, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন বর্ষীয়ান বামনেতা। এক্ষেত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন, দুর্নীতি, তোলাবাজি ও সিন্ডিকেটরাজ রাজ্যবাসীর জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে। মহিলাদের নিরাপত্তা, সম্ভ্রম ও আত্মনির্ভরতা বিপন্ন সমাজ-বিরোধীদের দৌরাত্ম্যে। রীতিমতো অভিযোগ করে তিনি জানান, স্থানীয় স্তর পর্যন্ত গণতন্ত্র প্রসারিত ছিল, তা ধ্বংস হয়ে গিয়েছে ১০ বছরে। আবার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিবেশ পশ্চিমবঙ্গের গর্ব ছিল, তাকে বিষাক্ত করে তোলা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বুদ্ধবাবু আরও জানিয়েছেন, একদিকে তৃণমূলের স্বৈরতান্ত্রিক দাপাদাপি অন্যদিকে বিজেপি-র বৃহৎ পুঁজির স্বার্থে সর্বনাশা আর্থিক নীতি, বিভেদের রাজনীতি, সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ- যার পিছনে রয়েছে আরএসএস-এর ভয়ঙ্কর মতাদর্শ। এরই পরিণতি রাজ্যে এখন এই ধ্বংসচিত্র।

